সূরা আল হুজুরাত
১ম অংশে (আয়াত ১-৫) রাসূলের সাথে মুমিনদের কেমন ব্যবহার (রসূলের চেয়ে অগ্রগামী না হওয়া, নিজেদের আওয়ায রসূলের আওয়াযের চেয়ে উঁচু না করা, ধৈর্য্য ধারন করা) করা উচিৎ ও তা না করলে কি পরিনাম (সব কাজ-কর্ম ধ্বংস হয়ে যাবে) সেটা বর্ননা করা হয়েছে। সাথে সাথে রাসূলের সঙ্গে যথাযথ ব্যবহারের পুরষ্কারের (তাকওয়া, ক্ষমা) কথাও এখানে এসেছে।
২য় অংশে (আয়াত ৬-১৩) মুমিনদের বৈশিষ্ট্য (ঈমানের প্রতি ভালবাসা, কুফরী, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে ঘৃণা) এবং অন্য মুমিন ও মানুষের সাথে মুমিনদের কেমন ব্যবহার (লড়াইরত/বিবাদমান দলের মধ্যে মিমাংসা, ইনসাফ করা, বিদ্রূপ না করা, খারাপ নামে না ডাকা, বেশী ধারণা ও অনুমান করা থেকে বিরত থাকা, দোষ অন্বেষণ না করা, গীবত না করা, পরহেজগারী) করা উচিৎ ও তা না করলে কি পরিনাম সেটা বর্ননা করা হয়েছে।
৩য় অংশে (আয়াত ১৪-১৮) এসে ১ম ও ২য় অংশের পরিপূর্নতা আনা হয়েছে। আল্লাহর রাসূলকে প্রকৃত মর্যাদা দান (আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ওপর সন্দেহমুক্ত ঈমান ) সহকারে তাঁর আনুগত্য (প্রাণ ও অর্থ-সম্পদ দিয়ে প্রচেষ্টা ও সাহায্য) করে মুমিনদের নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে আল্লাহর দেয়া পুরষ্কারের (ক্ষমা, দয়া, হেদায়াত) কথা এসেছে এবং আল্লাহর বড়ত্ব দিয়ে সূরাটি শেষ হয়েছে।

আগের সূরার সাথে সম্পর্কঃ আগের সূরা আল ফাতহ (৪৮ তম সূরা) এ মুহাম্মাদ (স) এর প্রতি আনুগত্য এর কথা এসেছে। মুমিনরা কিভাবে তাঁর সাথে থেকে তাঁর আনুগত্য করে গেছে তা বর্ননা করে এই সূরায় এসে মুহাম্মাদ (স) এর প্রতি অমর্যাদা, অবমাননা এর বিষয়টি এসেছে। অর্থাৎ আগের সূরায় মুহাম্মাদ (স) এর সাথে ঈমানদারদের আচরন, এই সূরাতে মুহাম্মাদ (স) এর সাথে ঈমান পুরাপুরি অন্তরে প্রবেশ করে নাই এমন মানুষদের সাথে আচরনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ৪৭ নম্বর সূরাটি তো মুহাম্মাদ (স) এর নামেই নামকরনকৃত।
পরের সূরার সাথে সম্পর্কঃ পরের সূরা আল ক্বফ (৫০ তম সূরা) এ মুহাম্মাদ (স) এর সাথে অবিশ্বাসীদের আচরন এর কথা বলা হয়েছে। সুতরাং ৪৮, ৪৯ ও ৫০ নম্বর সূরায় মুহাম্মাদ (স) এর সাথে যথাক্রমে ৩ শ্রেনীর (ঈমানদার, দূর্বল ঈমানদার, বে-ঈমানদার) মানুষের আচরনের বিষয়টি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। �

আরো কয়েকটি সূরা সম্পর্কে পড়তেঃ goo.gl/LqecG4
রেফারেন্স ও কৃতজ্ঞতাঃ বিভিন্ন তাফসীর, বিশেষ করে Nouman Ali Khan এর তাফসীর, বিভিন্ন লেকচার, ভিডিও ইত্যাদি।
Comments
Post a Comment